Cricket

অ্যাশেজে ভরাডুবির পর যে প্রতিশ্রুতি দিলেন স্টোকস

বেশ হুমকি-ধমকি দিয়েই অস্ট্রেলিয়ায় পা রেখেছিলেন বেন স্টোকস। দিন বদলের গল্প শুনয়েছিলেন সমর্থকদের। অজিদের ডেরায় ইংলিশ লায়নের হুঙ্কার শোনার অপেক্ষায়ও ছিলেন অনেকে। তবে মাঠের লড়াইয়ে বিন্দু পরিমাণ কথার ঝাঁঝের ছাপ পাওয়া গেল না। মাত্র ১১ দিনেই সিরিজ অ্যাশেজ খোঁয়ানোর পর শেষ টেস্টেও আত্মসমর্পন করেছে স্বাগতিকরা। চতুর্থ টেস্টে পাওয়া একমাত্র স্বান্ত্বনার জয় নিয়েই মলিন মুখে ঘরে ফিরতে হচ্ছে ইংল্যান্ডকে।

Image caption goes here

মর্যাদার লড়াই অ্যাশেজে এমন ভরাডুবির পর ‘বাজবল’ দর্শন নিয়েও সমালোচনার তীরে বিদ্ধ হচ্ছেন ব্রেন্ডন ম্যাককালাম-বেন স্টোকস জুটি। তবে চারদিক থেকে ধেয়ে আসা ঝড়ের মধ্যেও নতুন করে আশার বাণী শোনালেন স্টোকস। ৩৪ বছর বয়সী অলরাউন্ডারের মতে অস্ট্রেলিয়ায় ‘৩/১০ ধরনের ক্রিকেট’ খেলেছে ইংল্যান্ড। কিন্তু নিজের ‘নির্দয় আর নির্মম’ দিক দেখাতে নাকি তিনি ভয় পাননা।  

পুরোদস্তর ব্যর্থ একটি অ্যাশেজ সিরিজের পর ইংল্যান্ড টেস্ট দলকে নেতৃত্ব দিয়ে পুরো ঢেলে সাজানোর বার্তা দেন স্টোকস, ‘আমরা যতটা এগোতে চাই, তার জন্য আমাদের সরল ও খোলামেলা হতে হবে। আমিও যুবক বয়সে কিছু শিখেছি যা আমার তখন ভালো লাগত না, কিন্তু এখন পেছনে তাকালে বুঝতে পারি, তা আমাকে সঠিক কারণেই বলা হয়েছিল। আমি কেবল ড্রেসিং রুমের ছেলেদের জন্য সেরাটা চাই এবং তাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফল হওয়ার সেরা সুযোগ দিতে চাই, যা তারা করতে পারে। আমাদের কেবল একটি পুনঃগঠন দরকার।’

নিউ জিল্যান্ডের সাবেক ক্রিকেটার ম্যাককালাম দায়িত্ব নেওয়ার পরই বদলে যায় ইংল্যান্ড। ‘বাজবল’ নামের দর্শনে টেস্ট খেলে প্রথমদিকে বেশ সাফল্যও পায় তারা। ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে এই কৌশলের সাফল্য নিয়ে এখনও দৃঢ় আছেন ইংল্যান্ডের অধিনায়ক। আগের সেই ধারাই বজায় রাখতে চান তিনি, ‘আমরা প্রথম কয়েক বছরে (ম্যাককালামের অধীনে) অসাধারণ কিছু করেছি—শুধু ফলাফলের দিক থেকে নয়, বরং এমন খেলোয়াড়দের সেরাটা বের করেছি যারা হয়তো জানত না তারা কতটা ভালো। এখন বিষয় হলো, সেটা নিয়মিতভাবে করা।’

স্টোকস আরও যোগ করেন, “এখানেই দায়িত্ব আসে আমার, ব্রেন্ডন ও রবের ওপর—যারা খেলোয়াড়দের তত্ত্বাবধান ও নিয়ন্ত্রণ করা। আমরা এমন কিছু তৈরি করব যা দেখাবে, “এটাই আমাদের চেয়েছিলাম”।

পুরো সিরিজে নিজের করা ভুলও মাথা পেতে স্বীকার করেছেন স্টোকস, ‘আমি একজন নেতা ও অধিনায়ক হিসেবে আরও ভালো করতে পারি। আমরা খেলোয়াড় হিসেবে বড় ভুল করেছি, আমি ক্যাপ্টেন হিসেবে বড় ভুল করেছি, আর আমাদের সাহসী হতে হবে এবং নিজেকে ব্যক্তিগতভাবে তা স্বীকার করতে হবে। এটা কোনো ‘ভুল চাপিয়ে দেওয়া সংস্কৃতি’ নয়। যদি এটা একবার শুরু হলে, তবে সবকিছু ধ্বংস হয়ে যাবে।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *