Cricket

খাজার বিদায়ী ম্যাচে জয় দিয়েই অ্যাশেজ শেষ অস্ট্রেলিয়ার

চার দিন লড়াইয়ের পরও কোনো লাভ হলো না ইংল্যান্ডের। দাপুটে পারফরম্যান্সে জয় দিয়েই অ্যাশেজ সিরিজ শেষ করল অস্ট্রেলিয়া। ব্যাট হাতে বড় কিছু করতে না পারলেও ঘরের মাঠে মাথা উঁচু রেখেই ক্যারিয়ার শেষ করতে পারলেন উসমান খাজা।

Image caption goes here

সিডনি ক্রিকেট গ্রাউন্ডে এবারের অ্যাশেজের শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে অস্ট্রেলিয়া। সফরকারীদের দেওয়া ১৬০ রানের লক্ষ্য মাত্র ৩১.২ ওভারেই তাড়া করে ফেলে স্টিভ স্মিথের নেতৃত্বাধীন দল।

ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ৩৮৪ রান করেছিল ইংল্যান্ড। জবাবে ট্রাভিস হেড, স্টিভ স্মিথের সেঞ্চুরিতে ৫৬৭ রান করে অস্ট্রেলিয়া। ১৮৩ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়বার ব্যাট করতে নেমে জ্যাকব বেথেলের রেকর্ড গড়া সেঞ্চুরির পরও ৩৪২ রানের বেশি করতে পারেনি ইংলিশরা। 

অ্যাশেজ শুরুর আগেই বিশেষজ্ঞ-বিশ্লেষকদের অনেকে বলছিলেন, গত ১৫ বছরের মধ্যে এটি সবচেয়ে দুর্বল অস্ট্রেলিয়া দল। তাই ইংল্যান্ডের সিরিজ জয়ের ভবিষ্যদ্বাণীও করেছিলেন কেউ কেউ। তাদের ভুল প্রমাণ করে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতল অস্ট্রেলিয়া। 

এবারের অ্যাশেজে অস্ট্রেলিয়ার সাফল্যের বড় কারিগর ট্রাভিস হেড ও মিচেল স্টার্ক। পাঁচ ম্যাচে তিন সেঞ্চুরিতে ৬২৯ রান করেন হেড। চলতি শতাব্দীতে এক অ্যাশেজে ৬০০ রান করা অস্ট্রেলিয়ার মাত্র দ্বিতীয় ব্যাটার তিনি। এর আগে ২০১৭-১৮ ও ২০১৯ অ্যাশেজ এই কীর্তি গড়েন স্টিভ স্মিথ। 

বল হাতে স্টার্ক নেন ৩১ উইকেট। চলতি শতাব্দীতে এক অ্যাশেজে ৩০-র বেশি উইকেট নেওয়া চতুর্থ বোলার তিনি। মাত্র ২৯.৬ স্ট্রাইক রেটে এই ৩১ উইকেট নিয়ে সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতেন স্টার্ক। অ্যাশেজ ইতিহাসে এক সিরিজে অন্তত ৩০ উইকেট নেওয়া বোলারদের মধ্যে তার স্ট্রাইক রেটই সবচেয়ে ভালো। 

উইকেটের পেছনে দুর্দান্ত ছিলেন অ্যালেক্স কেয়ারি। সব মিলিয়ে ২৮টি ডিসমিসাল করেছেন তিনি। এক অ্যাশেজে এর চেয়ে ডিসমিসাল আছে শুধু একজনের, ব্র্যাড হ্যাডিন (২০১৩ সালের অ্যাশেজে ২৯ ডিসমিসাল)। 

৮ উইকেটে ৩০২ রান নিয়ে সিরিজের শেষ দিন ব্যাট করতে নামে ইংল্যান্ড। এদিন আরও ৪০ রান যোগ করতে পারে তারা। ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করা বেথেল আউট হন ১৫৪ রান করে। আর ম্যাথু পটস করেন ১৮ রান।

অস্ট্রেলিয়ার হয়ে ৩টি করে উইকেট নেন স্টার্ক ও বাউ ওয়েবস্টার।

মাঝারি লক্ষ্য পেয়ে ঝড়ো শুরু করেন হেড ও জ্যাক ওয়েদারাল্ড। মাত্র ৬৩ বলে ৬২ রান যোগ করেন দুই ওপেনার। হেড ৩৫ বলে ২৯ ও ওয়েদারাল্ড ৪০ বলে ৩৫ রান করে ফিরে যান। একই ছন্দে খেলে ৪০ বলে ৩৭ রান করেন মার্নাস লাবুশেন।

তবে দুর্ভাগ্যজনক রান আউটে কাটা পড়েন লাবুশেন। ক্যারিয়ারের শেষ ইনিংস খেলতে নামা খাজা ৬ রানের বেশি করতে পারেননি। সব মিলিয়ে ৮৮ টেস্টে ১৬ সেঞ্চুরি ও ২৮ ফিফটিতে ৬ হাজার ২২৯ রান নিয়ে বিদায় জানালেন তিনি।

১২১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। তবে অ্যালেক্স কেয়ারি (১৬) ও ক্যামেরন গ্রিনের (২২) অবিচ্ছিন্ন ৪০ রানের জুটিতে অনায়াসেই জিতে যায় স্বাগতিকরা। 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *