অবশেষে কোর্টে গড়ালো জাতীয় টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ

প্রায় দুই বছর পর আবারও টেবিল টেনিসের বলের ঠুকঠাক শব্দ ও দর্শকদের উচ্ছ্বাসে মুখর হয়ে উঠেছে পল্টনের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ ইনডোর স্টেডিয়াম। গতকাল শুক্রবার সকাল থেকে শুরু হয়েছে ৪০তম জাতীয় টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপ।
প্রায় ৫০০ খেলোয়াড় অংশ নিয়েছেন এবারের প্রতিযোগিতায়। মোট দল ৪৯টি। এর মধ্যে ৪১টি জেলা দল এবং আটটি সার্ভিস ও প্রাতিষ্ঠানিক দল। সকাল থেকেই বিভিন্ন বয়সের খেলোয়াড়দের উপস্থিতিতে কোর্টগুলো ছিল ব্যস্ত।
উদ্বোধনী দিনে আলাদা করে নজর কেড়েছে একটি ব্যতিক্রমী ঘটনা। সাবেক জাতীয় টেবিল টেনিস খেলোয়াড় ফাতেমা তুজ জোহরা আঁখি এবারের চ্যাম্পিয়নশিপে দায়িত্ব পালন করছেন রেফারি হিসেবে, আর একই টুর্নামেন্টে খেলোয়াড় হিসেবে অংশ নিয়েছে তারই ১০ বছর বয়সী ছেলে ইজাজ হোসেন আয়াত।
পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়াত শুক্রবার নিজের প্রথম ম্যাচ খেলেছে, যা তাঁর জাতীয় টেবিল টেনিস চ্যাম্পিয়নশিপে অভিষেক। পাঁচ বছর বয়সে টেবিল টেনিসে হাতেখড়ি আয়াতের। বর্তমানে সে প্রতিদিন নিয়মিত দুই থেকে তিন ঘণ্টা অনুশীলন করে। এর আগে ২০২৩ ও ২০২৪ সালে দুটি টুর্নামেন্টে খেলেছে আয়াত।
২০১৫ সালে লেভেল-ওয়ান এবং ২০২৫ সালে লেভেল-টু কোচিং কোর্স সম্পন্ন করা আঁখির বিশ্বাস, ক্রিকেট ও ফুটবলের বাইরেও শিশুদের খেলাধুলায় উৎসাহিত করা জরুরি। তিনি বলেন, ‘প্রতিটি শিশুরই কোনো না কোনো খেলায় যুক্ত থাকা উচিত। টেবিল টেনিস স্মৃতিশক্তি, দৃষ্টিশক্তি ও সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ভালো পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এই খেলাটি শিশুদের জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।’
দিনভর ও সন্ধ্যা পর্যন্ত চলতে থাকা ম্যাচগুলো নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশ টেবিল টেনিস ফেডারেশনের (টিটি) সাধারণ সম্পাদক ক্যাপ্টেন এম. এ. মাকসুদ আহমেদ বলেন, দর্শকে ভরা স্টেডিয়াম ও প্রতিযোগিতামূলক খেলাগুলো আশাব্যঞ্জক। তিনি আরও জানান, জেলা ও বিভাগ পর্যায়ে টেবিল টেনিসের প্রসার ঘটানোই ফেডারেশনের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য।
