পিএসএলে বিলিয়নের দল, মিলিয়নের ‘চা’

পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) নতুন দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি রেকর্ড দামে বিক্রি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ব্যবসায়িক কোম্পানির হাতে দল দুটি যাওয়ায় লিগের আর্থিক শক্তি ও আন্তর্জাতিক আগ্রহ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) আয়োজিত নিলামে দুটি দলই বিক্রি হয়েছে প্রায় দুই বিলিয়ন রুপির কাছাকাছি মূল্যে।
পিএসএলের ভবিষ্যৎ ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে নানা প্রশ্ন উঠলেও এই নিলাম লিগটির বাণিজ্যিক সক্ষমতার জোরালো প্রমাণ দিয়েছে। নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজি মূল্যায়নের আগে মুলতান সুলতানস ছাড়া মালিকানাধীন সব দল—চুক্তি নবায়নে সম্মত হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও কোনো দল চুক্তি থেকে সরে আসেনি, যা প্রমাণ করে পিএসএলে বিনিয়োগকে এখনো লাভজনক হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মুলতান সুলতানস তাদের বর্তমান ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি নিয়ে অস্বস্তিতে ছিল। নতুন করে কম দামে দল কেনার সম্ভাবনা বিবেচনা করে তারা নিলামের দরপত্রও সংগ্রহ করেছিল। তবে নিলাম শুরুর ঠিক আগে তারা সরে দাঁড়ায়। পরে নিলামে দর যে বিলিয়ন রুপিতে পৌঁছাতে পারে, তা আঁচ করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের ধারণা।
নিলামে প্রথম দলটি (হায়দরাবাদ) বিক্রি হয় ১ কোটি ৭৫ লাখ রুপিতে। তারপর পিসিবি রিজার্ভ প্রাইস বাড়িয়ে দেয়, ফলে পরবর্তী দলটি আরও বেশি দামে বিক্রি হয়। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় দলটি ১ কোটি ৮৫ লাখ রুপিতে বিক্রি হয় এবং নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজিটির নামকরণ করা হয় সিয়ালকোট। এই দলটি কিনেছে অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক ওজি গ্রুপ, যাদের অংশীদারদের মধ্যে রয়েছেন হামজা মজিদ ও কামিল খান।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্যবসায়ী গোষ্ঠী কিংসম্যান (এফকেএস) হায়দরাবাদভিত্তিক ফ্র্যাঞ্চাইজিটি কিনেছে। নিলামজুড়ে তাদের ধারাবাহিক দর বৃদ্ধিতে স্পষ্ট ছিল, দল কেনার ব্যাপারে তারা দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দর আরও বাড়লেও তারা পিছপা হতো না।
নিলামে অংশ নেওয়া কিছু প্রতিষ্ঠান খুব সীমিত দর দেয়, দল কিনতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা ভেবেছিল রিজার্ভ প্রাইসই পূরণ হবে না। শুধু নিলামে বসা, নাম ওঠানো আর টিভিতে দেখা যাওয়ার জন্যই তাদের দিতে হয়েছে ২০ হাজার ডলার (প্রায় ৫–৬ মিলিয়ন রুপি)। বিনিময়ে তারা কিছুই পায়নি—শুধু ‘চা খেয়ে ফিরে এসেছে’।
নিলাম অনুষ্ঠানটি সরাসরি সম্প্রচার করা হয় এবং সাবেক অধিনায়ক ওয়াসিম আকরাম পুরো আয়োজন সঞ্চালনা করেন। প্রতিরক্ষামূলক চ্যাম্পিয়ন লাহোর কালান্দার্সের মালিক আতিফ রানার উপস্থিতিও নজর কাড়ে। পুরো প্রক্রিয়াটি স্বচ্ছ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন হওয়ায় পিসিবির প্রশংসা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পিসিবি সূত্র জানায়, ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি সরাসরি বোর্ডের তহবিলে যাবে, কেন্দ্রীয় পুলে নয়। ফলে এখন বোর্ডের লক্ষ্য বড় আকারের বাণিজ্যিক ও মিডিয়া স্বত্ব চুক্তি নিশ্চিত করা। নতুন দুটি দল যুক্ত হওয়ায় ম্যাচের সংখ্যা বাড়বে, যা সম্প্রচারস্বত্ব থেকে আরও বেশি রাজস্ব আনার সম্ভাবনা তৈরি করবে।
বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আগামী পাঁচ বছরে কেন্দ্রীয় পুল থেকে প্রতিটি ফ্র্যাঞ্চাইজি কমপক্ষে ৮৫০ মিলিয়ন রুপি পাবে। তবে একটি দলের বার্ষিক ব্যয় ১.৫ বিলিয়ন রুপির কাছাকাছি হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ফ্র্যাঞ্চাইজি ফি ছাড়াও খেলোয়াড় ও কর্মকর্তাদের বেতন, ভ্রমণ ও আবাসন ব্যয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
নতুন দল যুক্ত হওয়ায় খেলোয়াড় ধরে রাখার (রিটেনশন) নীতিমালা নিয়েও আলোচনা চলছে। নতুন ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো কোনো খেলোয়াড় ধরে না রাখার পক্ষে থাকলেও পুরোনো দলগুলো সীমিত সংখ্যক রিটেনশন চাচ্ছে। এ বিষয়ে সমঝোতার পথে হাঁটতে পারে পিসিবি।
এরই মধ্যে মুলতান সুলতানসকে নতুন করে বিক্রির সম্ভাবনার কথাও শোনা যাচ্ছে। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিলে, সেই বিক্রি হলে মূল্য দুই বিলিয়ন রুপি ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে
