রেফারির পক্ষপাতের অভিযোগে তীব্র প্রতিক্রিয়া মরক্কো কোচের

আফ্রিকা কাপ অব নেশনসের (আফকন) চলতি সংস্করণের আয়োজক দেশ মরক্কো। মহাদেশীয় শ্রেষ্ঠত্যের লড়াইয়ে সেমি ফাইনালে আজ নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হবে আশরাফ হাকিমির দল। তবে ফাইনাল নিশ্চিতের এই ম্যাচের আগে আলোচনায় মরক্কোর বিরুদ্ধে রেফারির পক্ষপাতের অভিযোগ। আর সেই অভিযোগের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ঝাড়লেন মরক্কোর কোচ ওয়ালিদ রেগরাগুই।
বাংলাদেশ সময় আজ রাত দুইটায় নাইজেরিয়ার মুখোমুখি হবে মরক্কো। গুরুত্বপূর্ণ এই ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলনে উঠে আসে ক্যামেরুনের বিপক্ষে ২-০ গোলে জেতা ম্যাচের কথা। অনেকের মতে শেষ আটের এই ম্যাচে রেফারির সিদ্ধান্ত মরক্কোর পক্ষে গেছে। তবে সে সব অভিযোগ তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিলেন মরক্কোর কোচ।
ওয়ালিদ রেগরাগুই বলেন, ‘হারানোর মতো দল আমরাই। আর যখন আপনি যেকোনো প্রতিপক্ষকে হারানোর দল হন, তখন মানুষ নানা অজুহাত খুঁজবে—বলবে মরক্কো নাকি বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে।’ ঘরের মাঠে খেলা হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই সমর্থকদের পুরো সমর্থন পাচ্ছে মরক্কো। তবে এই সমর্থকরাই দুয়োধ্বনি আর শিশ বাজিয়ে রেফারির সিদ্ধান্তে প্রভাব রাখছেন বলে মনে করছেন অনেকে।
মরক্কো কোচের মতে তাঁর দল নিজেদের উঠানে হওয়া টুর্নামেন্টে একমাত্র দর্শকদের সুবিধাটাই পাচ্ছে, ‘এই আফ্রিকা কাপের আসরে মরক্কোর একমাত্র সুবিধা হলো ৬৫ হাজার দর্শকের সামনে খেলা। বাকি সব কিছু মাঠেই নির্ধারিত হয়, আমরা মাঠেই কথা বলি।’
ক্যামেরুনের বিপক্ষে ম্যাচে মাঠের ঘটনাপ্রবাহে দেখা যায়, অভিজ্ঞ রেফারি দাহানে বেইদা যদি স্বাগতিকদের পক্ষে সিদ্ধান্ত না নিতেন, তাহলে ক্যামেরুন অন্তত দুটি পেনাল্টি পেতে পারত। মরক্কোর ডিফেন্ডার আদাম মাসিনা দুটি ঘটনার সঙ্গেই জড়িত ছিলেন। প্রথমে ক্যামেরুন ম্যাচে সমতা ফেরানোর চেষ্টা করার সময় দলটির ফুটবলার ব্রায়ান এমবুয়েমোর ডান পায়ে আঘাত করেন বলে মনে হয় মরক্কোর একজন খেলোয়াড়। এরপর ম্যাচের শেষদিকে বক্সের ভেতরে ইত্তা ইয়ংয়ের মাথায় কনুই মারার ঘটনাও দেখা যায়।
গত আসরের ফাইনাল পরিচালনা করা রেফারি দাহানে বেইদা কোয়ার্টার ফাইনালে ইসমাইল সাইবারি গোল করে ম্যাচ নিশ্চিত করার ঠিক আগে একটি প্রতিআক্রমণ থামানোর জন্য বিলাল এল খানুসকে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখাননি।
তবে মরক্কোর কোচ উল্টো দাবি করেন অনেক সময় তাঁর দলের বিপক্ষেই সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেফারি, ‘অনেকে বিশ্বাস করতে চায়, বা অন্যদের বিশ্বাস করাতে চায় যে আমরা রেফারিদের কাছ থেকে সুবিধা পাই। ব্যক্তিগতভাবে আমি এমন পেনাল্টির ঘটনাও দেখেছি, যেগুলো আমাদের পক্ষে দেওয়া যেত। তবে রেফারির ব্যাপারে আমি কখনোই এসব নিয়ে কথা বলি না।’
এরপর মরক্কোর কোচ আইভরি কোস্টে হওয়া আগের টুর্নামেন্টে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে পাওয়া না-পাওয়া একটি পেনাল্টির প্রসঙ্গ তোলেন এবং দাবি করেন যে, সেই টুর্নামেন্টে তাকে কোনো কারণ ছাড়াই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। আগের আসরে কঙ্গোর অধিনায়ক চানসেল এমবেম্বার সঙ্গে ম্যাচ শেষে বিতর্কে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় দুই ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ হয়েছিলেন রেগরাগুই। ওই ঘটনার জেরে খেলোয়াড় ও দলীয় কর্মকর্তাদের মধ্যে হাতাহাতির মতো বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
চলতি আসরের প্রসঙ্গে ফিরে এসে রেগরাগুই বলেন, ‘পরিসংখ্যান সবসময়ই দেখায় আমরা অন্যদের চেয়ে ভালো। প্রতিপক্ষের তুলনায় আমরা অনেক বেশি সুযোগ তৈরি করি। ক্যামেরুনের বিপক্ষে বা অন্য কোনো দলের বিপক্ষে একটি গোলও বাতিল করা হয়নি। যখন কাউকে বা কোনো দলকে সরিয়ে দিতে চাওয়া হয়, তখন অজুহাত খোঁজা হয়।’
এবারের আফকনে মালির বিপক্ষে ম্যাচে মরক্কোর বিপক্ষে পেনাল্টির দাবি নাকচ হয়, তানজানিয়াও একই ধরনের অভিযোগ তোলে। মালির বিপক্ষে ড্র ম্যাচে ভিএআর পর্যালোচনার পর মরক্কোর পক্ষে একটি পেনাল্টিও দেওয়া হয়েছিল।
আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে একবারই চ্যাম্পিয়ন হয়েছে মরক্কো। ১৯৭৬ সালের শিরোপা জেতা সেই আসরের পর ২০০৪ সালে ফাইনালে তিউনিসিয়ার বিপক্ষে হেরে যায় তারা। এবার নিজেদের ডেরায় প্রায় ৫০ বছর পর দ্বিতীয়বার ট্রফি জয়ের সুযোগ হাতছানি দিচ্ছে মরক্কোকে। এবারের আসরের আরেক সেমি ফাইনালে আজ মোহাম্মদ সালাহর মিসরের মুখোমুখি হচ্ছে সাদিও মানের সেনেগাল।
