Football

২১ বছর পর ফাইনালে মরক্কো

রাবাতে রোমাঞ্চকর এক রাতে টাইব্রেকারে নাইজেরিয়াকে ৪–২ গোলে হারিয়ে ২০২৫ আফ্রিকা কাপ অব নেশন্সের (আফকন) ফাইনালে উঠেছে স্বাগতিক মরক্কো। গোলশূন্য সমতার পর টাইব্রেকারে মরক্কোর জয়ের নায়ক গোলকিপার ইয়াসিন বুনো। পেনাল্টি শুটআউটে দুর্দান্ত দুটি সেভ করেছেন আল হিলালের এই গোলকিপার।

২০০৪ আসরের পর আবার শিরোপার মঞ্চে মরক্কো। ২২ বছর আগের সেই আসরে তিউনিসিয়ার কাছে হেরে দ্বিতীয়বারের মতো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুযোগ হারায় তারা। এবার ১৯৭৬ সালের পর আবার ট্রফি জয় হাতছানি দিচ্ছে মরক্কোকে। ফাইনালে তাদের প্রতিপক্ষ সেনেগাল। আগামী রোববার বাংলাদেশ সময় রাত একটায় মুখোমুখি হবে তারা।

গতকাল রাবাতে আফকনের শেষ চারের  সমান তালে লড়েছে দুই দলই। যদিও আক্রমণে আধিপত্য ছিল স্বাগতিকদের। ৪৯ শতাংশ পজেশন রেখে তারা গোলের জন্য ১৬টি শট নেয়, এর মধ্যে ৫টি লক্ষ্যে ছিল। বিপরীতে নাইজেরিয়া মাত্র দুটি শট নিয়ে একটি লক্ষ্যে রাখতে পারে।

অভিজ্ঞ নাইজেরিয়ান দল শুরুতেই চাপ সামলে নিয়ে স্বাগতিকদের সুযোগ সীমিত রাখতে সক্ষম হয়। বিশেষ করে ফুলহ্যাম ডিফেন্ডার ক্যালভিন বাসি এরিক চেলের দলের হয়ে দুর্দান্ত খেলেন। ৩৩ মিনিটে দিয়াজের মুখে হাত লাগায় একটি হলুদ কার্ড দেখেন তিনি।

ম্যাচের শুরুতেই বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করে মরক্কো। তবে ইসমাইল সাইবারির প্রায় নিশ্চিত গোল ব্লকে আটকে দেন নাইজেরিয়ার ডিফেন্ডার সেমি আজাই। এ ছাড়া ব্রাহিম দিয়াজের একটি শট যায় পোস্ট ঘেঁষে।

পেনাল্টি বক্সের বাইরে কৌশলী ফাউল করায় বাসিকে হলুদ কার্ড দেখান রেফারি, যার জন্য নাইজেরিয়া ফাইনালে উঠলে তিনি নিষিদ্ধ হতেন। তবে এখন তাকে কেবল শনিবার কাসাব্লাঙ্কায় মিশরের বিপক্ষে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী নিয়মরক্ষার ম্যাচে বসে থাকতে হবে। নাইজেরিয়ার একমাত্র অন-টার্গেট শটটি নেন আদেমোলা লুকম্যান, তবে সেটি বুনোর জন্য অতটা কঠিন ছিল না। সুপার ঈগলসদের কাছ থেকে খুব বেশি আক্রমণাত্মক ফুটবল দেখা যায়নি।

বিরতি  পর আশরাফ হাকিমির একটি শট বাসির হাতে লাগার পর পেনাল্টির জোরালো আবেদন ওঠে। তবে বলটি আগে অন্য এক ডিফেন্ডারের গায়ে এবং পরে বাসির পেটে লাগায় ভিডিও সহকারী রেফারি (ভিএআর) সাড়া দেয়নি। গোলের জন্য মরিয়া উভয় দলই সুযোগ পেয়েছিল, বিশেষ করে মরক্কো। দিয়াজ, আয়ুব এল কাবি ও আশারাফ হাকিমিরা সুযোগ হাতছাড়া করেছেন। তাদের ঠেকিয়ে দিয়ে নাইজেরিয়া শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি টাইব্রেকারে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়। 

টাইব্রেকারে নাইজেরিয়া নামার সময় দলে ছিলেন না অধিনায়ক ভিক্টর ওসিমেন। অতিরিক্ত সময়ের বাকি ছিল তিন মিনিটেরও কম, ঠিক সেই সময় তারকা স্ট্রাইকারকে তুলে নেন কোচ এরিক শেলে।

ওসিমেনের বদলি পল ওনুয়াচু অন্তত নিজের কাজটা ঠিকঠাকই করেন। সুপার ঈগলসের হয়ে প্রথম পেনাল্টিটি ঠান্ডা মাথায় জালে পাঠান তিনি। এর আগে নেইল এল আয়নাউইয়ের শট নোয়াবালিকে ভুল দিকে পাঠালে স্কোর সমতায় আসে।

বদলি হিসেবে নেমে দারুণ প্রাণবন্ত থাকা হামজা ইগামানে ছিলেন প্রথম মিস করা খেলোয়াড়। ডান দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে নোয়াবালি তার শটটি পোস্টের বাইরে পাঠিয়ে দেন। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গেই ফুলহ্যামের স্যামুয়েল চুকউয়েজে ভয়াবহ এক শটে নাইজেরিয়ার এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ নষ্ট করেন, যা ইয়াসিন বোনো সহজেই গড়িয়ে পড়ে ধরে ফেলেন।

এরপর এলিয়েসে বেন সেগির, ফিসায়ো দেলে-বাসিরু ও আচরাফ হাকিমি একে একে সফল শট নেন। শেষ পর্যন্ত আবারও নায়ক হয়ে ওঠেন বুনো। ব্রুনো অনিয়েমায়েচির শট ঠেকিয়ে দেন তিনি অসাধারণ এক সেভে। বাঁ দিকে ঝাঁপ দেওয়ার পরও আফ্রিকার বর্ষসেরা গোলকিপার যথেষ্ট চটপটে ছিলেন। গতি সামলে আবার ডান দিকে ঝুঁকে মাঝ বরাবর আসা নাইজেরিয়ার লেফটব্যাকের শক্তিশালী শটে হাত বাড়িয়ে দেন বুনো—এবং সেই সেভেই মরক্কোর ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *